আইইএর পূর্বাভাস সংশোধন

জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ায় কমতে পারে বৈশ্বিক উদ্বৃত্ত

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী থাকায় সামনের দিনগুলোয় জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়তে পারে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশগুলো থেকে সরবরাহ কমেছে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী থাকায় সামনের দিনগুলোয় জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়তে পারে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশগুলো থেকে সরবরাহ কমেছে। এ কারণে আগামী বছর বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের উদ্বৃত্ত আগে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় কমতে পারে। সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। খবর রয়টার্স।

সংস্থাটির হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী চাহিদার তুলনায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ দৈনিক ৩৮ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল বেশি থাকবে। এর আগে নভেম্বরে দৈনিক ৪০ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল উদ্বৃত্তের পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি।

ওপেক প্লাসভুক্ত দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে চলতি বছর জ্বালানি তেলের উত্তোলন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে। তবে আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) উত্তোলন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেক প্লাস।

প্রতিবেদনে আইইএ আরো জানায়, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি ও শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ কমে আসায় ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়বে দৈনিক ৮ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল। এটি গত মাসে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় দৈনিক ৯০ হাজার ব্যারেল বেশি। এছাড়া ২০২৫ সালে আইইএ চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪০ হাজার ব্যারেল বাড়িয়ে দৈনিক ৮ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল করা হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সামনের দিনগুলোয় উন্নয়নশীল দেশগুলোয় জ্বালানি তেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বাড়বে।

আইইএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া ও ভেনিজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব বিবেচনায় ২০২৫ ও ২০২৬ সালে সরবরাহ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কিছুটা কমানো হয়েছে। আগামী বছর বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়তে পারে দৈনিক ২৪ লাখ ব্যারেল। এর আগে দৈনিক ২৫ লাখ ব্যারেল সরবরাহের পূ্র্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি।

নভেম্বরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহ মাস ভিত্তিতে দৈনিক ৬ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল কমতে পারে। এ সময় রাশিয়া ও ভেনিজুয়েলায় উত্তোলন কমে গেলেও ঊর্ধ্বমুখী ছিল যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রাজিল, গায়ানা ও আর্জেন্টিনার উত্তোলন।

আইইএ আরো জানায়, আগামী মাসগুলোয় ‘প্যারালাল মার্কেট’ বা দ্বিমুখী বাজার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঊর্ধ্বমুখী থাকলে পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকরা জানান, চীন ছাড়া অন্যান্য দেশের পরিশোধন সক্ষমতা কমেছে। এ কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এছাড়া রুশ জ্বালানি পণ্যের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞাও পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ কমার পেছনে ভূমিকা রাখবে।

আরও